রাম মন্দিরে অর্থ লুটপাটের ঘটনায় তদন্ত চান প্রিয়াঙ্কা
ভারতের অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দান করা অর্থ লুটপাটের অভিযোগকে ঘিরে ভারতের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এ ঘটনাকে অত্যন্ত ‘দুঃখজনক’ ও ‘লজ্জাজনক’ উল্লেখ করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে উত্তর প্রদেশ সরকার বলছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না এবং তদন্তের ভিত্তিতে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাম মন্দিরে ভক্তদের দানের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আসে চলতি মাসের শুরুতে। এরপর মন্দির পরিচালনাকারী শ্রী রাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের অনুরোধে উত্তর প্রদেশ সরকার একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে। তদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে। আদালত তাদের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠিয়েছেন।
শনিবার নিজের নির্বাচনি এলাকায় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বলেন, সারা দেশ থেকে অসংখ্য মানুষ বিশ্বাস ও ধর্মীয় অনুভূতির জায়গা থেকে রাম মন্দির নির্মাণের জন্য অর্থ দান করেছিলেন। সেই অর্থ লুটপাটের অভিযোগ অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং এটি শুধু আর্থিক অনিয়মের বিষয় নয়, কোটি কোটি মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গেও জড়িত।
তিনি বলেন, এই অর্থ কোনো একটি প্রতিষ্ঠানের নয়, বরং সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত সঞ্চয় থেকে দেওয়া অনুদান। অনেক নারী নিজের সঞ্চয় থেকে দান করেছেন, অনেক দরিদ্র মানুষও সামর্থ্য অনুযায়ী অবদান রেখেছেন। তাই শুধু যারা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে অভিযুক্ত তাদের নয়, যারা এই অর্থ সংগ্রহ ও সংরক্ষণের দায়িত্বে ছিলেন, তাদেরও জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
কংগ্রেস নেত্রীর এই বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর দাবি, রাম মন্দির কোটি কোটি মানুষের ধর্মীয় আবেগের প্রতীক। সেখানে দানের অর্থ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ অত্যন্ত স্পর্শকাতর, এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া উচিত।
অন্যদিকে উত্তর প্রদেশ প্রশাসন জানিয়েছে, বিশেষ তদন্তকারী দল তাদের প্রাথমিক প্রতিবেদনে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ পুরো বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যার বিরুদ্ধেই অভিযোগ প্রমাণিত হবে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

